জন্ম নিবন্ধন আবেদনের অবস্থা চেক করার নিয়ম
আবেদন জমা দেওয়ার পর কাজটা কোন পর্যায়ে আছে সেটা ঘরে বসেই দেখা যায়। শুধু আবেদন নম্বরটি হাতে রাখতে হবে।
এই পাতায় যা আছে
জন্ম নিবন্ধনের নতুন আবেদন বা সংশোধনের আবেদন জমা দেওয়ার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থাকে, কাজটা কতদূর এগোলো। বারবার অফিসে না গিয়ে এটা অনলাইনেই দেখা যায়।
যা যা লাগবে
- আবেদন নম্বর — আবেদন জমা দেওয়ার সময় যে নম্বরটি পেয়েছিলেন
- জন্ম তারিখ — YYYY-MM-DD ফরম্যাটে
এই দুটোই যথেষ্ট। ১৭ ডিজিটের নিবন্ধন নাম্বার এখানে লাগে না, কারণ আবেদন অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত সেই নম্বরটি তৈরিই হয় না।
দেখার নিয়ম
- bdris.gov.bd-এ যান
- আবেদনপত্রের অবস্থা বা Application Status অপশনটি বেছে নিন
- আবেদন নম্বরটি লিখুন
- জন্ম তারিখ YYYY-MM-DD ফরম্যাটে দিন
- দেখুন বা Search বাটনে ক্লিক করুন
আবেদনের অবস্থা দেখার ধাপ
bdris.gov.bd এর স্ট্যাটাস পাতায় যান
bdris.gov.bd এ গিয়ে আবেদনপত্রের অবস্থা বা Application Status অপশনটি বেছে নিন।
আবেদনপত্রের ধরন হিসেবে জন্ম নিবন্ধন নাকি মৃত্যু নিবন্ধন, সেটি প্রথমে নির্বাচন করতে হবে।
আবেদন আইডি ও জন্ম তারিখ দিয়ে অবস্থা দেখা যায় আবেদন আইডি ও জন্ম তারিখ দিন
আবেদন জমা দেওয়ার সময় যে আইডি নাম্বারটি পেয়েছিলেন সেটি লিখুন। এরপর জন্ম তারিখ YYYY-MM-DD ফরম্যাটে দিন।
এখানে ১৭ ডিজিটের নিবন্ধন নাম্বার লাগে না, কারণ আবেদন অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত সেই নাম্বারটি তৈরিই হয় না।
দেখুন বাটনে ক্লিক করুন
সব ঠিক থাকলে আবেদনটি এখন কোন পর্যায়ে আছে সেটি স্ক্রিনে দেখাবে।
কিছু না দেখালে আবেদন আইডি বা জন্ম তারিখে ভুল আছে কিনা মিলিয়ে দেখুন।
স্ট্যাটাসের অর্থ
| যা দেখাচ্ছে | এর মানে |
|---|---|
| আবেদন গৃহীত | আবেদনটি সিস্টেমে জমা হয়েছে, এখনো যাচাই শুরু হয়নি |
| যাচাইয়ের অপেক্ষায় | কার্যালয় কাগজপত্র মিলিয়ে দেখছে |
| অনুমোদনের অপেক্ষায় | যাচাই শেষ, সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে |
| অনুমোদিত | সনদ ইস্যু হয়েছে, কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করা যাবে |
| বাতিল | তথ্য বা কাগজে ঘাটতি ছিল, কারণ জেনে আবার আবেদন করতে হবে |
আটকে থাকলে করণীয়
অভিজ্ঞতা থেকে বলি, দেরির কারণ প্রায় সবসময় একই কয়েকটা। এক, প্রিন্ট করা আবেদন কপি ও মূল কাগজপত্র অফিসে জমা দেওয়া হয়নি। দুই, আপলোড করা প্রমাণপত্র অস্পষ্ট ছিল। তিন, আবেদনে লেখা তথ্যের সাথে কাগজের তথ্য মিলছে না।
আবেদন নম্বরটি নিয়ে সরাসরি কার্যালয়ে গেলে কয়েক মিনিটেই কারণটা জানা যায়। ফোনে জিজ্ঞেস করলেও অনেক অফিস জানিয়ে দেয়।
অনুমোদিত দেখানোর পর সনদ হাতে পেয়ে অবশ্যই যাচাই করে নেবেন, তথ্যে কোনো ভুল থেকে গেছে কিনা।
আবেদন আইডি কোথায় পাবেন
আবেদন জমা দেওয়ার পর স্ক্রিনে যে নাম্বারটি দেখায়, সেটিই আবেদন আইডি। এটি হারিয়ে ফেললে কয়েক জায়গায় খুঁজে দেখতে পারেন —
- আবেদনের সময় দেওয়া মোবাইল নাম্বারে আসা এসএমএস
- আবেদনের প্রিন্ট কপি বা তার ছবি
- ব্রাউজারের ডাউনলোড ফোল্ডার, যদি পিডিএফ সেভ করে থাকেন
- ফোনের গ্যালারিতে তোলা স্ক্রিনশট
কোথাও না পেলে যে কার্যালয়ে আবেদন করেছিলেন সেখানে গিয়ে নাম ও জন্ম তারিখ বললে তারা খুঁজে বের করে দিতে পারবেন।
কতদিন পরপর দেখা উচিত
প্রতিদিন দেখার দরকার নেই, তাতে কাজ দ্রুত হয় না। সপ্তাহে একবার দেখলেই যথেষ্ট।
সাধারণ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে এক থেকে দুই সপ্তাহ, আর জন্ম তারিখ সংশোধনের মতো বিষয়ে এক থেকে দুই মাস পর্যন্ত লাগতে পারে। এর বেশি সময় ধরে একই অবস্থায় আটকে থাকলে কার্যালয়ে গিয়ে খোঁজ নিন।
আবেদন বাতিল হলে কী করবেন
বাতিল দেখালে হতাশ হওয়ার কিছু নেই, আবার আবেদন করা যায়। তবে আগে কারণটা জানা দরকার।
কার্যালয়ে গিয়ে আবেদন আইডি দেখিয়ে জিজ্ঞেস করুন কেন বাতিল হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কারণ থাকে —
- প্রমাণপত্র যথেষ্ট শক্ত ছিল না
- আপলোড করা কাগজের ছবি অস্পষ্ট
- আবেদনের তথ্যের সাথে কাগজের তথ্য মিলছে না
- প্রয়োজনীয় কোনো কাগজ জমা দেওয়া হয়নি
কারণটা ঠিক করে নতুন করে আবেদন করলে সাধারণত অনুমোদন হয়ে যায়।
অনুমোদনের পর
স্ট্যাটাসে অনুমোদিত দেখালে কার্যালয়ে গিয়ে সনদটি সংগ্রহ করুন। সাথে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে যাবেন।
সনদ হাতে পাওয়ার পর অবশ্যই অনলাইনে যাচাই করে দেখুন সব তথ্য ঠিক আছে কিনা। এই এক মিনিটের কাজটা পরে অনেক বড় ঝামেলা থেকে বাঁচায়।
শেষ কথা
আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রতিদিন স্ট্যাটাস দেখে লাভ নেই, তাতে কাজ দ্রুত হয় না। সপ্তাহে একবার দেখলেই যথেষ্ট।
অনেকদিন একই অবস্থায় আটকে থাকলে আবেদন আইডি নিয়ে সরাসরি কার্যালয়ে যান। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনো কাগজ কম থাকায় দেরি হয়, আর সেটা পাঁচ মিনিটেই জানা যায়।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর
আবেদন নম্বর হারিয়ে গেলে কী করব?
আবেদনের সময় দেওয়া মোবাইল নম্বরে পাঠানো এসএমএসে নম্বরটি থাকতে পারে। না পেলে যে কার্যালয়ে আবেদন করেছিলেন সেখানে নাম ও জন্ম তারিখ দিয়ে খুঁজে বের করা যায়।
স্ট্যাটাস দেখাচ্ছে না কেন?
আবেদন জমা দেওয়ার পর তথ্য সিস্টেমে উঠতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। এছাড়া আবেদন নম্বর বা জন্ম তারিখে ভুল থাকলেও কিছু দেখাবে না।
অনুমোদন হলে কি এসএমএস আসে?
সাধারণত আবেদনের সময় দেওয়া মোবাইল নম্বরে বার্তা যায়। তবে সব কার্যালয়ে এটি নিয়মিত হয় না, তাই নিজে থেকে অনলাইনে দেখে নেওয়াই নিরাপদ।
অনেকদিন ধরে আটকে আছে, কী করব?
সরাসরি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে গিয়ে আবেদন নম্বর দেখিয়ে জেনে নিন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনো কাগজ কম থাকায় বা যাচাই বাকি থাকায় দেরি হয়।
Google-এ প্রিয় সোর্স হিসেবে যুক্ত করুন
এরপর থেকে জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত সার্চে আমাদের সাইট আগে দেখতে পাবেন।
কোথাও আটকে গেছেন?
কোনো ধাপে সমস্যা হলে, তথ্যে ভুল চোখে পড়লে বা অন্য কিছু জানার থাকলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।