জন্ম নিবন্ধন ফি ও বিলম্ব ফি কত
জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করালে কোনো ফি লাগে না। দেরি হলে বয়স অনুযায়ী নির্ধারিত ফি যোগ হয়।
এই পাতায় যা আছে
জন্ম নিবন্ধনের ফি সরকার নির্ধারিত এবং সারা দেশে এক। কোনো কার্যালয় এর বেশি নিতে পারে না। রসিদ ছাড়া টাকা দেওয়াও ঠিক নয়।
দেশের ভেতরে ফি
| যে কাজ | নির্ধারিত ফি |
|---|---|
| জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন | ফ্রি |
| ৪৬ দিন থেকে ৫ বছরের মধ্যে | ২৫ টাকা |
| ৫ বছরের পরে নিবন্ধন | ৫০ টাকা |
| জন্ম তারিখ সংশোধন | ১০০ টাকা |
| নাম বা অন্য তথ্য সংশোধন | ৫০ টাকা |
| সনদের কপি (বাংলা বা ইংরেজি) | ৫০ টাকা |
বিদেশে থাকলে
দূতাবাস বা হাইকমিশনের মাধ্যমে নিবন্ধন করালে ফি ডলারে বা স্থানীয় মুদ্রায় নেওয়া হয়। ৪৫ দিনের মধ্যে হলে সেখানেও ফ্রি, দেরি হলে সাধারণত ১ থেকে ২ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ফি প্রযোজ্য হয়।
এই হারগুলো জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত। সরকার সময়ে সময়ে হার পরিবর্তন করতে পারে, তাই আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট কার্যালয় বা bdris.gov.bd থেকে চলতি হারটি একবার মিলিয়ে নেওয়া ভালো।
দেরি করলে কী বাড়ে
শুধু টাকাটাই বাড়ে না, কাগজের তালিকাও বড় হয়। ৪৫ দিনের মধ্যে করালে হাসপাতালের ছাড়পত্র আর বাবা-মায়ের এনআইডিই যথেষ্ট। পাঁচ বছর পার হয়ে গেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়ন, চিকিৎসকের বয়স প্রত্যয়ন, হোল্ডিং ট্যাক্সের রসিদসহ অনেক কিছু জোগাড় করতে হয়।
প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরে নিবন্ধন করাতে গিয়ে অনেকে মাসের পর মাস দৌড়ান, শুধু কাগজ জোগাড় করতেই। তাই সন্তানের জন্মের পরপরই কাজটা সেরে ফেলা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
কাগজপত্রের পূর্ণ তালিকা ও আবেদনের নিয়ম নতুন জন্ম নিবন্ধনের গাইডে দেওয়া আছে।
ফি জমা দেওয়ার নিয়ম
কিছু কার্যালয়ে অনলাইনেই ফি জমা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। সেক্ষেত্রে আবেদন জমা দেওয়ার সময়ই পেমেন্টের অপশন দেখাবে, মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ড দিয়ে দেওয়া যাবে।
বেশিরভাগ ইউনিয়ন পরিষদে এখনো কার্যালয়ে গিয়ে নগদে জমা দিতে হয়। টাকা দেওয়ার পর অবশ্যই রসিদ নেবেন। রসিদ ছাড়া টাকা দিলে পরে কোনো প্রমাণ থাকে না।
নির্ধারিত ফির বাইরে টাকা চাইলে
সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কেউ চাইলে —
- প্রথমে রসিদ চেয়ে নিন, রসিদে নির্ধারিত অঙ্কই লেখা থাকবে
- সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের সচিব বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি জানান
- প্রয়োজনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে পারেন
দেরিতে নিবন্ধনে খরচ কেন বাড়ে
শুধু ফি বাড়ে না, কাগজের তালিকাও লম্বা হয়। ৪৫ দিনের মধ্যে করালে হাসপাতালের ছাড়পত্র আর বাবা-মায়ের এনআইডিই যথেষ্ট।
পাঁচ বছর পার হয়ে গেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়ন, চিকিৎসকের বয়স প্রত্যয়ন, হোল্ডিং ট্যাক্সের রসিদসহ অনেক কিছু জোগাড় করতে হয়। এসব জোগাড় করতে গিয়ে সময় আর যাতায়াতের খরচই ফির চেয়ে অনেক বেশি হয়ে যায়।
প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর নিবন্ধন করাতে গিয়ে অনেকে মাসের পর মাস দৌড়ান। তাই সন্তানের জন্মের পরপরই কাজটা সেরে ফেলাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
শেষ কথা
ফি সরকার নির্ধারিত এবং সারা দেশে এক। রসিদ ছাড়া কখনো টাকা দেবেন না।
আর মনে রাখবেন, দেরি করলে শুধু ফি বাড়ে না, কাগজের তালিকাও লম্বা হয়। জন্মের পরপরই নিবন্ধন করিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে কম খরচের ও কম ঝামেলার পথ।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর
জন্ম নিবন্ধন করতে কত টাকা লাগে ২০২৬?
জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে করালে ফ্রি। ৪৬ দিন থেকে ৫ বছরের মধ্যে ২৫ টাকা এবং ৫ বছরের পরে ৫০ টাকা নিবন্ধন ফি প্রযোজ্য।
জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে কত টাকা লাগে?
জন্ম তারিখ সংশোধনে ১০০ টাকা এবং নাম বা অন্য তথ্য সংশোধনে ৫০ টাকা নির্ধারিত আছে।
সনদের কপি তুলতে কত টাকা লাগে?
বাংলা বা ইংরেজি সনদের কপির জন্য ৫০ টাকা নির্ধারিত। এর বেশি চাওয়া হলে রসিদ চেয়ে নিন।
নিবন্ধনের জন্য কি কোনো ফি লাগেই না?
জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে করালে নিবন্ধন ফি লাগে না। এর পরে বয়স অনুযায়ী নির্ধারিত ফি প্রযোজ্য হয়।
অনলাইনে যাচাই করতে কি টাকা লাগে?
না, যাচাই সম্পূর্ণ ফ্রি। যাচাইয়ের নামে কেউ টাকা চাইলে বুঝবেন সেটি প্রতারণা।
নির্ধারিত ফি ছাড়া বাড়তি টাকা চাইলে কী করব?
সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে কোনো টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। রসিদ চেয়ে নিন। বাড়তি টাকা দাবি করা হলে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন।
ফি কি অনলাইনে দেওয়া যায়?
কিছু কার্যালয়ে অনলাইনে ফি জমার ব্যবস্থা আছে, অনেক জায়গায় এখনো কার্যালয়ে নগদে জমা দিতে হয়। আবেদনের সময় কোন পদ্ধতি প্রযোজ্য তা দেখিয়ে দেওয়া হয়।
Google-এ প্রিয় সোর্স হিসেবে যুক্ত করুন
এরপর থেকে জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত সার্চে আমাদের সাইট আগে দেখতে পাবেন।
কোথাও আটকে গেছেন?
কোনো ধাপে সমস্যা হলে, তথ্যে ভুল চোখে পড়লে বা অন্য কিছু জানার থাকলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।