মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন করার নিয়ম

মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করানোর নিয়ম। দেরি হলেও করা যায়, তবে বাড়তি কাগজ ও ফি লাগে।

এই পাতায় যা আছে

পরিবারে কারও মৃত্যুর পর নিবন্ধনের কাজটা অনেকে পিছিয়ে দেন। কিন্তু পরে সম্পত্তি ভাগ, ব্যাংক বা পেনশনের কাজে গিয়ে যখন মৃত্যু সনদ চাওয়া হয়, তখন তাড়াহুড়োয় করতে গেলে অনেক বেশি ভোগান্তি হয়।

কোথায় আবেদন করবেন

জন্ম নিবন্ধনের মতোই, মৃত ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে। বিদেশে মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা হাইকমিশনে।

অনলাইনে আবেদন শুরু করা যায় bdris.gov.bd থেকে, তারপর কাগজপত্র নিয়ে কার্যালয়ে যেতে হয়।

কে আবেদন করতে পারেন

  • মৃত ব্যক্তির পিতা বা মাতা
  • স্বামী বা স্ত্রী
  • ছেলে বা মেয়ে
  • আইনগত অভিভাবক
  • পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

কাগজ কেন লাগে
মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন সনদ মৃত্যু নিবন্ধন এর সাথে যুক্ত হয়
মৃত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র পরিচয় নিশ্চিত করতে
মৃত্যুর প্রমাণ হাসপাতালের সনদ, চিকিৎসকের প্রত্যয়ন বা স্থানীয় প্রত্যয়ন
আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র সম্পর্ক ও পরিচয় যাচাইয়ে
ঠিকানার প্রমাণ হোল্ডিং ট্যাক্সের রসিদ বা বিদ্যুৎ বিল

হাসপাতালে মৃত্যু হলে সেখান থেকে দেওয়া মৃত্যু সনদটি সবচেয়ে শক্ত প্রমাণ, সেটি হারাবেন না। বাড়িতে মৃত্যু হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা চিকিৎসকের প্রত্যয়ন লাগে।

আবেদনের পরে

আবেদন জমার পর একটি আবেদন নম্বর পাবেন, সেটি সংরক্ষণ করুন। কার্যালয় তথ্য যাচাই করে অনুমোদন দিলে ১৭ ডিজিটের মৃত্যু নিবন্ধন নাম্বারসহ সনদ ইস্যু হয়।

সনদ হাতে পেয়ে অনলাইনে যাচাই করে নিশ্চিত হয়ে নিন তথ্য ঠিক আছে কিনা। ভুল থাকলে সংশোধনের আবেদন করতে হবে, আর সেটা যত আগে ধরা পড়ে ততই সুবিধা।

আবেদনের ধাপগুলো

  1. bdris.gov.bd এ গিয়ে মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন অপশনটি বেছে নিন
  2. মৃত ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন নির্বাচন করুন
  3. মৃত ব্যক্তির নাম, জন্ম নিবন্ধন নাম্বার, মৃত্যুর তারিখ ও কারণ লিখুন
  4. আবেদনকারীর তথ্য ও মৃত ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক উল্লেখ করুন
  5. প্রমাণপত্রের স্ক্যান কপি আপলোড করুন
  6. আবেদন জমা দিয়ে আবেদন আইডি সংরক্ষণ করুন
  7. প্রিন্ট কপি ও মূল কাগজপত্র নিয়ে কার্যালয়ে যান

আবেদনের অবস্থা পরে অনলাইনে দেখে নিতে পারবেন, বারবার অফিসে যেতে হবে না।

যেসব কারণে আবেদন আটকে যায়

  • মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করা নেই
  • মৃত্যুর প্রমাণপত্র হিসেবে যা দেওয়া হয়েছে তা যথেষ্ট নয়
  • আবেদনকারীর সাথে মৃত ব্যক্তির সম্পর্কের প্রমাণ নেই
  • আপলোড করা কাগজের ছবি অস্পষ্ট
  • অনলাইনে আবেদন করে কার্যালয়ে কাগজ জমা দেওয়া হয়নি

প্রথমটি সবচেয়ে বেশি হয়। মৃত্যু নিবন্ধন জন্ম নিবন্ধনের সাথে যুক্ত থাকে, তাই মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন অনলাইন না থাকলে অনেক কার্যালয় আগে সেটি করাতে বলেন।

দেরি হয়ে গেলে

মৃত্যুর ৪৫ দিন পার হয়ে গেলেও নিবন্ধন করা যায়, তবে নির্ধারিত বিলম্ব ফি দিতে হয় এবং বাড়তি প্রমাণপত্র চাওয়া হতে পারে।

অনেক বছর আগের মৃত্যুর ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির প্রত্যয়ন, কবরস্থানের রসিদ বা দুইজন সাক্ষীর জবানবন্দিও লাগতে পারে। কার্যালয়ভেদে এই চাহিদা আলাদা হয়, তাই যাওয়ার আগে ফোনে জেনে নেওয়া ভালো।

সনদ হাতে পাওয়ার পর অবশ্যই অনলাইনে যাচাই করে দেখে নেবেন তথ্যগুলো ঠিক আছে কিনা।

শেষ কথা

মৃত্যু নিবন্ধনের কাজটা পিছিয়ে দেবেন না। পরে সম্পত্তি, ব্যাংক বা পেনশনের কাজে গিয়ে তাড়াহুড়ো করলে অনেক বেশি ভোগান্তি হয়।

মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে করালে ফি লাগে না। সনদ হাতে পেয়ে অবশ্যই অনলাইনে যাচাই করে দেখে নেবেন তথ্যগুলো ঠিক আছে কিনা।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর

মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন কোথায় করতে হয়?

মৃত ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনে। অনলাইনে আবেদন শুরু করা যায় bdris.gov.bd থেকে।

মৃত্যু নিবন্ধন করতে কী কী কাগজ লাগে?

মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র, মৃত্যুর প্রমাণ হিসেবে হাসপাতালের সনদ বা স্থানীয় প্রত্যয়ন, আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ঠিকানার প্রমাণ।

মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন কে করতে পারেন?

মৃত ব্যক্তির পিতা, মাতা, স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, আইনগত অভিভাবক বা পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য আবেদন করতে পারেন।

মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন না থাকলে কী হবে?

অনেক ক্ষেত্রে আগে জন্ম নিবন্ধন করাতে বলা হয়, কারণ মৃত্যু নিবন্ধন জন্ম নিবন্ধনের সাথে যুক্ত থাকে। সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে জেনে নেওয়া ভালো।

মৃত্যু নিবন্ধনে কত ফি লাগে?

মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করালে ফি লাগে না। দেরি হলে নির্ধারিত ফি প্রযোজ্য হয়, হার সময়ে সময়ে বদলাতে পারে বলে কার্যালয় থেকে জেনে নেবেন।

বিদেশে মৃত্যু হলে কোথায় নিবন্ধন করব?

সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের মাধ্যমে। মৃতদেহ দেশে আনা হলে স্থানীয় কার্যালয়েও প্রক্রিয়া করা যায়।

Google-এ প্রিয় সোর্স হিসেবে যুক্ত করুন

এরপর থেকে জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত সার্চে আমাদের সাইট আগে দেখতে পাবেন।

যুক্ত করুন

কোথাও আটকে গেছেন?

কোনো ধাপে সমস্যা হলে, তথ্যে ভুল চোখে পড়লে বা অন্য কিছু জানার থাকলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

যোগাযোগ করুন