জন্ম নিবন্ধন নাম্বার হারিয়ে গেলে করণীয়
সনদ হারালে নতুন করে নিবন্ধন করতে হয় না। নিবন্ধন একবার হয়ে গেলে তথ্য সার্ভারে থেকেই যায়, শুধু নম্বরটা খুঁজে বের করতে হয়।
এই পাতায় যা আছে
সনদ হারিয়ে গেছে, নম্বরও মনে নেই, এই অবস্থায় অনেকে ধরে নেন সব শেষ। আসলে তা নয়। নিবন্ধন একবার হয়ে গেলে তথ্য সরকারি ডেটাবেজে সংরক্ষিত থাকে। কাজ শুধু একটাই, ১৭ ডিজিটের নাম্বারটি খুঁজে বের করা।
আগে ঘরেই খুঁজে দেখুন
নম্বরটি প্রায়ই এমন কাগজে লেখা থাকে যেগুলোর কথা মনে পড়ে না:
- স্কুলে ভর্তির পুরনো ফরম বা রেজিস্ট্রেশন কার্ড
- শিশুর টিকা কার্ড
- পাসপোর্ট আবেদনের কাগজপত্র
- এনআইডি আবেদনের ফরমের কপি
- ব্যাংক হিসাব খোলার ফাইল
- পুরনো সনদের ফটোকপি বা মোবাইলে তোলা ছবি
অনেকে পুরনো ফোনের গ্যালারিতে সনদের ছবি পেয়ে যান। খোঁজার আগে সেটাও দেখে নিন।
কার্যালয় থেকে উদ্ধার
ঘরে না পেলে যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন থেকে নিবন্ধন হয়েছিল সেখানে যেতে হবে।
সাথে নিয়ে যাবেন নিজের বা অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র, আর যতটা সম্ভব সঠিকভাবে জানাবেন কোন বছর নিবন্ধন হয়েছিল এবং তখনকার ঠিকানা কী ছিল। এই দুটো তথ্য জানা থাকলে রেজিস্টার খুঁজতে অনেক সময় বাঁচে।
সেখানে নাম, পিতা-মাতার নাম ও জন্ম তারিখ মিলিয়ে রেজিস্টার বই থেকে রেকর্ডটি বের করা হয়। পাওয়া গেলে ১৭ ডিজিটের নাম্বারটি জানিয়ে দেওয়া হবে।
নম্বর পাওয়ার পরে
নম্বর হাতে পেলে প্রথমেই অনলাইনে যাচাই করে দেখুন রেকর্ডটি ডিজিটাল আছে কিনা এবং তথ্যগুলো ঠিক আছে কিনা।
- তথ্য এলে — যাচাইয়ের পাতাটি PDF করে সেভ করে রাখুন, আর সত্যায়িত কপি লাগলে কার্যালয়ে আবেদন করুন
- তথ্য না এলে — রেকর্ডটি সম্ভবত এখনো ডিজিটাইজ হয়নি, ডিজিটাইজ করানোর নিয়মটি দেখুন
- তথ্যে ভুল থাকলে — সংশোধনের আবেদন করুন
এবার নম্বরটি এমন জায়গায় লিখে রাখুন যেটা হারাবে না। ফোনের নোটে, ইমেইলের ড্রাফটে বা পরিবারের কারও কাছে একটা কপি রাখুন।
সনদের নতুন কপি তোলার নিয়ম
নাম্বারটি পেয়ে গেলে সনদের নতুন কপি দুইভাবে তুলতে পারেন।
অনলাইনে আবেদন করে। bdris.gov.bd এ গিয়ে সনদের কপির আবেদন অপশনটি বেছে নিন। ১৭ ডিজিটের নাম্বার ও জন্ম তারিখ দিয়ে রেকর্ডটি বের করুন, তারপর আবেদন জমা দিন। এরপর কার্যালয়ে গিয়ে ফি জমা দিয়ে সনদটি সংগ্রহ করতে হবে।
সরাসরি কার্যালয়ে গিয়ে। আবেদন ফরম পূরণ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিসহ জমা দিন। ফি জমা দিয়ে রসিদ নিন। সাধারণত কয়েক কর্মদিবসের মধ্যেই সনদ পাওয়া যায়।
ভলিউম বই কী
ইউনিয়ন পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনে হাতে লেখা রেজিস্টার বই রাখা হয়, যেখানে প্রতিটি নিবন্ধনের তথ্য ক্রমিক নাম্বার অনুযায়ী লেখা থাকে। একে ভলিউম বই বলা হয়।
অনলাইনে যখন কিছু পাওয়া যায় না, তখন এই বই থেকেই রেকর্ড খুঁজে বের করা হয়। এজন্যই নিবন্ধনের আনুমানিক সালটা জানা থাকা খুব দরকারি, না হলে অনেকগুলো বই ঘেঁটে দেখতে হয়।
নাম্বার যেন আর না হারায়
নাম্বারটি হাতে পাওয়ার পর কয়েক জায়গায় লিখে রাখুন —
- ফোনের নোট অ্যাপে
- নিজের ইমেইলে একটা ড্রাফট করে
- সনদের ছবি তুলে গুগল ড্রাইভ বা ফোনের গ্যালারিতে
- পরিবারের অন্য কারও কাছে একটা ফটোকপি
ডিজিটাল কপি থাকলে হারানোর ভয় থাকে না, আর যেকোনো সময় অনলাইনে যাচাই করে নিতে পারবেন।
শেষ কথা
সনদ হারালে নতুন করে নিবন্ধন করার দরকার নেই। নিবন্ধন একবার হয়ে গেলে তথ্য সার্ভারে থেকেই যায়।
নাম্বারটি পেয়ে গেলে সেটি কয়েক জায়গায় লিখে রাখুন — ফোনের নোটে, নিজের ইমেইলে, আর পরিবারের কারও কাছে একটা কপি। তাহলে আর কখনো এই ঝামেলায় পড়তে হবে না।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর
জন্ম নিবন্ধন সনদ হারিয়ে গেলে করণীয় কী?
নতুন করে নিবন্ধন করতে হবে না। যে ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন থেকে নিবন্ধন হয়েছিল, সেখানে গিয়ে ভলিউম বই থেকে নাম্বারটি বের করা যায়। তারপর সনদের কপির জন্য আবেদন করতে হয়।
সনদের কপি তুলতে কী কী লাগে?
১৭ ডিজিটের নাম্বার, জন্ম তারিখ এবং আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র। সাথে নির্ধারিত ফি জমা দিতে হয়।
সনদ হারালে কি আবার নিবন্ধন করতে হবে?
না। নিবন্ধন একবার হয়ে গেলে রেকর্ড সার্ভারে থাকে। নতুন করে নিবন্ধন করলে বরং দুটি নিবন্ধন হয়ে গিয়ে জটিলতা বাড়বে।
নাম দিয়ে কি অনলাইনে নম্বর খুঁজে পাওয়া যায়?
না। অনলাইনে নাম দিয়ে খোঁজার কোনো ব্যবস্থা নেই। কার্যালয়ে গিয়ে রেজিস্টার থেকেই খুঁজতে হয়।
কার্যালয়ে কী নিয়ে যাব?
নিজের বা অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র, এবং নিবন্ধনের আনুমানিক সাল ও ঠিকানার তথ্য। পুরনো সনদের ফটোকপি বা ছবি থাকলে সেটিও নিয়ে যান।
অন্য জেলায় থাকলে কী করব?
নম্বরটি জানা থাকলে অনলাইনে যেকোনো জায়গা থেকেই যাচাই করা যায়। তবে নম্বর উদ্ধার বা নতুন কপি তুলতে হলে যে কার্যালয়ে নিবন্ধন হয়েছিল সেখানেই যোগাযোগ করতে হয়।
Google-এ প্রিয় সোর্স হিসেবে যুক্ত করুন
এরপর থেকে জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত সার্চে আমাদের সাইট আগে দেখতে পাবেন।
কোথাও আটকে গেছেন?
কোনো ধাপে সমস্যা হলে, তথ্যে ভুল চোখে পড়লে বা অন্য কিছু জানার থাকলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।