এনআইডি দিয়ে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা যায় কি
এই প্রশ্নটা সবচেয়ে বেশি আসে। সরাসরি উত্তর হলো না, তবে বিকল্প পথ আছে।
এই পাতায় যা আছে
অফিসে আর অনলাইনে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটা আসে সেটা হলো, নম্বর ছাড়া কি কোনোভাবে যাচাই করা যায় না। এনআইডি আছে, নাম আছে, জন্ম তারিখ আছে, তাহলে?
উত্তরটা পরিষ্কার করে বলি।
যেসব উপায়ে যাচাই করা যায় না
| যা দিয়ে খুঁজতে চান | সম্ভব কিনা | কারণ |
|---|---|---|
| জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) | না | দুটি সম্পূর্ণ আলাদা সিস্টেম, একে অপরের সাথে যুক্ত নয় |
| নাম | না | একই নামের হাজারো মানুষ, সার্চের ব্যবস্থাই রাখা হয়নি |
| শুধু জন্ম তারিখ | না | তারিখের সাথে ১৭ ডিজিটের নাম্বারও লাগবে |
| পাসপোর্ট নম্বর | না | পাসপোর্টের ডেটাবেজ আলাদা |
| মোবাইল নম্বর | না | শুধু আবেদনের অবস্থা জানতে কাজে লাগে |
| পিতা-মাতার তথ্য | না | সরাসরি সার্চের অপশন নেই |
সরকারি সিস্টেমে খোঁজার একটাই পথ, ১৭ ডিজিটের নাম্বার এবং জন্ম তারিখ, দুটোই একসাথে।
কেন এই সীমাবদ্ধতা রাখা হয়েছে
এটা অসুবিধা মনে হলেও আসলে সুরক্ষার ব্যবস্থা। নাম বা জন্ম তারিখ দিয়ে সার্চের সুযোগ থাকলে যে কেউ অন্য মানুষের নাম লিখে তার পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা ও নিবন্ধন নাম্বার বের করে ফেলতে পারত।
নম্বরটি যেহেতু সনদের গায়ে লেখা থাকে, তাই যার সনদ তার কাছেই নম্বরটি থাকে। এভাবে তথ্যটা যার, শুধু তার নাগালেই থাকে।
নম্বর না থাকলে যা করবেন
নম্বর হারিয়ে ফেললে অনলাইনে খোঁজার চেষ্টা করে লাভ নেই, সময় নষ্ট হবে। সঠিক পথ হলো কার্যালয় থেকে নম্বরটি উদ্ধার করা।
কোথায় খুঁজবেন, কার্যালয়ে কী নিয়ে যাবেন, পুরো প্রক্রিয়াটা হারানো নম্বর উদ্ধারের গাইডে ধাপে ধাপে দেওয়া আছে।
একটা সতর্কতা। ফেসবুকে বা ইউটিউবে অনেকে দাবি করেন এনআইডি দিয়ে জন্ম নিবন্ধন বের করে দিতে পারবেন, বিনিময়ে টাকা চান। এমন কোনো ব্যবস্থা সরকারি সিস্টেমে নেই। এদের কাছে নিজের এনআইডি নম্বর বা ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না।
নম্বরটি পেয়ে গেলে যাচাই ফরম থেকে সরাসরি চেক করে নিতে পারবেন।
এনআইডি অ্যাকাউন্ট থেকে নাম্বার বের করা
একটা কাজের কথা বলি, যেটা অনেকেই জানেন না।
আপনার যদি জাতীয় পরিচয়পত্রের অনলাইন অ্যাকাউন্ট (services.nidw.gov.bd) খোলা থাকে, তাহলে সেখানে লগইন করে নিজের প্রোফাইলে জন্ম নিবন্ধন নাম্বারটি দেখতে পেতে পারেন। কারণ এনআইডি করার সময় জন্ম সনদের তথ্য জমা দিতে হয়েছিল।
নাম্বারটি পেয়ে গেলে সেটি দিয়ে সরাসরি যাচাই করে নিতে পারবেন। তবে এটি সব ক্ষেত্রে কাজ করে না, বিশেষ করে পুরনো এনআইডির ক্ষেত্রে।
কার্যালয় থেকে নাম্বার বের করা
এটাই সবচেয়ে নিশ্চিত উপায়। জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে যে ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন থেকে নিবন্ধন হয়েছিল সেখানে যান।
সেখানে নাম, পিতা-মাতার নাম ও আনুমানিক জন্মসাল বললে ভলিউম বই মিলিয়ে নাম্বারটি বের করে দেওয়া হয়। কাজটা সাধারণত এক দিনেই হয়ে যায়।
বিস্তারিত হারানো নাম্বার উদ্ধারের পোস্টে দেওয়া আছে।
কিউআর কোড দিয়ে যাচাই
নতুন ডিজিটাল সনদের ডানপাশে একটি কিউআর কোড থাকে। ফোনের ক্যামেরা বা যেকোনো স্ক্যানার অ্যাপ দিয়ে সেটি স্ক্যান করলে সরাসরি সরকারি যাচাই পাতায় নিয়ে যায়।
এটি সুবিধাজনক, কিন্তু কাজ করে শুধু সনদটি হাতে থাকলে। সনদ না থাকলে কিউআর কোডও নেই, তাই নাম্বার ছাড়া এই পথেও যাওয়া যাবে না।
শেষ কথা
সংক্ষেপে বললে, এনআইডি, নাম, মোবাইল নাম্বার বা পাসপোর্ট — কোনোটি দিয়েই জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা যায় না। এটি সরকারি সিস্টেমের সীমাবদ্ধতা নয়, বরং সুরক্ষার ব্যবস্থা।
নাম্বার না থাকলে অনলাইনে খুঁজে সময় নষ্ট না করে সরাসরি কার্যালয়ে যান। আর কেউ টাকার বিনিময়ে বের করে দেওয়ার কথা বললে তাকে নিজের কোনো তথ্য দেবেন না।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর
NID দিয়ে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা যায় কি?
না। জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম নিবন্ধনের ডেটাবেজ দুটি আলাদা সিস্টেম। NID নম্বর দিয়ে BDRIS-এ কোনো তথ্য খোঁজা যায় না।
নাম দিয়ে যাচাই করা যায় কি?
না। একই নামের হাজারো মানুষ থাকায় নাম দিয়ে সার্চের ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
মোবাইল নম্বর দিয়ে কি খুঁজে পাওয়া যায়?
না। আবেদনের সময় দেওয়া মোবাইল নম্বর শুধু আবেদনের অবস্থা জানাতে ব্যবহৃত হয়, সনদ খোঁজার কাজে নয়।
কিউআর কোড স্ক্যান করে কি যাচাই করা যায়?
নতুন ডিজিটাল সনদে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করলে সরকারি যাচাই পাতায় নিয়ে যায়। তবে এটি কাজ করে শুধু সনদ হাতে থাকলে, নম্বর ছাড়া নয়।
Google-এ প্রিয় সোর্স হিসেবে যুক্ত করুন
এরপর থেকে জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত সার্চে আমাদের সাইট আগে দেখতে পাবেন।
কোথাও আটকে গেছেন?
কোনো ধাপে সমস্যা হলে, তথ্যে ভুল চোখে পড়লে বা অন্য কিছু জানার থাকলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।